ইতালি ভিসা খরচ

ইতালি ভিসা খরচ ২০২৩ – ভিসা আবেদনের লিংক

অনেকের কাছেই ইতালি স্বপ্নের দেশ। যার কারণে তারা ইতালি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকে। অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যায়। তবে আজকের এই পোস্টে আমরা বৈধ পথে ইতালি ভিসা খরচ নিয়ে আলোচনা করব। কেননা অনেকেই ইতালি যেতে চাচ্ছেন কিন্তু ইতালি ভিসা খরচ জানেন না। তাদেরকে ইতালি ভিসা খরচ জেনে নেয়া প্রয়োজন। কেননা পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে কোন কাজে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ইতালি আপনি বিভিন্ন কাজে যেতে পারেন যেমন ভ্রমণ করার জন্য, চিকিৎসার জন্য, পড়াশোনার জন্য অথবা কাজের জন্য।

ইতালি যেতে চার ক্যাটাগরির ভিসা রয়েছে। এই চার ক্যাটাগরির ভিসায় চার রকমের খরচ হয়ে থাকে। আপনি যদি চিকিৎসার জন্য ভিসা রেডি করতে চান তাহলে আপনার খরচ এক রকম পড়বে। আর আপনি যদি বেড়ানোর জন্য ভিসা নিতে চান সেক্ষেত্রে আপনার অন্য রকম খরচ পড়বে। আর সবচেয়ে বেশি খরচ করে কাজের উদ্দেশ্যে ইতালি যেতে চাইলে। কেননা এই ভিসার ডিমান্ড সবচেয়ে বেশি। চলুন এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা খরচ জেনে নিন।

Table of Contents

ইতালি ভিসা খরচ

ইতালির বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটি সিজনাল ভিসা আর অন্যটি নন সিজনাল ভিসা। সিজনাল ভিসা হলো এমন প্রকারের ভিসা, আপনি ৬ থেকে ৯ মাস সেখানে গিয়ে থাকতে পারবেন। এর দেখি সময় থাকার জন্য আপনাকে পারমিশন দেয়া হবে না। আর নন সিজনাল ভিসা হল আনলিমিটেড। এখানে আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী থাকতে পারবেন। এখানে আপনার কোন সময় নির্ধারণ থাকবে না।

সিজনাল ভিসার মধ্যে পড়ে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ ভিসা। আর নন সিজনাল ভিসা হলো কাজের ভিসা। সিজনাল ভিসার জন্য খরচ পরে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। আর নন সিজনাল ভিসার জন্য খরচ পরে ১০ থেকে ১১ লক্ষ টাকা। তবে ইতালি নন সিজনাল ভিসা খুব কম পাওয়া যায়। যদি আপনার কোন নিকট আত্মীয় ইতালি থেকে থাকে তবে সেক্ষেত্রে আপনি নন সিজনাল ভিসায় যেতে পারবেন খুব সহজে।

নন সিজনাল ভিসা পাওয়া কষ্ট হওয়ার কারণে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে ইতালি যায়। উদাহরণস্বরূপ দুবাই থেকে ইতালি যাওয়া খুবই সহজ। আবার অনেকে ইরাক থেকে ইতালি যেয়ে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে অনেক রিস্ক থাকে। বাংলাদেশের অসংখ্য যুবক তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যায়। তবে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সবচেয়ে ভাল। কারণ এতে কোন জীবনের ঝুঁকি থাকে না।

ইতালি ভিসা প্রসেসিং

ইতালি ভিসা প্রসেসিং করার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা প্রসেসিং করতে হবে। এছাড়াও আপনি চাইলে অনলাইন থেকে ভিসা আবেদন করে নিতে পারেন। এর জন্য প্রথমে ভিসা আবেদন করার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সেখান থেকে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার জন্য আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনুসারে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। এরপর ভিসা আবেদন করতে হবে।

আর যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা প্রসেসিং করতে চান। তবে আপনার সমস্ত তথ্য ও ব্যাংক একাউন্ট তথ্য সঠিক করে আপনাকে সেখানে জমা দিয়ে ভিসা আবেদন করতে হবে। জমা দেওয়ার ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আপনি ভিসা পেয়ে যাবেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সময়ের বেশি লাগতে পারে। তবে বেশিরভাগ সময় .৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়।

ইতালি ভিসা আবেদনের লিংক

ইতালির ভিসা আবেদনের জন্য সবচেয়ে ভালো যদি ইতালি কেউ থাকে তবে তার দ্বারা ওই দেশের সরকারের কাছে আবেদন করা। এটার অবস্থানরত কোন ব্যক্তি যদি ভিসা আবেদন করে দেয় তবে আপনি খুব সহজেই ভিসা পেয়ে যাবেন। আর যদি সেরকম কেউ না থাকে তবে কোন কোম্পানির মাধ্যমে চুক্তি করে আপনি তার দ্বারা ভিসা আবেদন করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার একটু খরচ বেশি পড়বে।

ভিসা আবেদন করার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের কাছে ভিসা আবেদন করা। তবে আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করে নিতে পারেন। এর জন্য আপনাকে ইতালি ভিসা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হবে। তবে অনলাইনে আবেদন করলে আপনাকে অনলাইন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে। যদি আপনি কোন ঝামেলা পোহাতে না চান তবে সেক্ষেত্রে কোন কোম্পানির দ্বারা অথবা ইতালির অবস্থানরত কোন ব্যক্তির দ্বারা করাই ভালো।

ইতালি স্পন্সর ভিসা

প্রতিবছর ইতালি সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের জন্য তার দেশ প্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। দেশে কাজের জন্য অসংখ্য শ্রমিকের প্রয়োজন হয় যা ইতালিতে পর্যাপ্ত নয়। যার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নিয়োগ দেয় ইতালি সরকার। বাংলাদেশ থেকে ইতালি সরকার ২৭ হাজার শ্রমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আপনি চাইলে ইতালি স্পন্সর ভিসা তে আবেদন করে নিতে পারেন।

যদি আপনার পরিচিত কেউ ইতালি থাকে তবে এই ভিসা আপনি অতি সহজেই পেয়ে যাবেন। ইতালি ভিসা পাওয়ার জন্য আপনি যে কোম্পানিতে যাবেন সেই কোম্পানির অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার লাগবে। ইতালি থাকা ব্যক্তি তার কোম্পানি থেকে খুব সহজেই এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিতে পারবে। আর আপনি সরকারিভাবেও ইতালি যেতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে ভালো দালালের শরণাপন্ন হতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার উপায়

অনেকের মাঝেই প্রশ্ন থাকে বাংলাদেশ থেকে কি ইতালি যাওয়া যায়? হ্যাঁ বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য প্রথমত আপনার বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। তাছাড়া ইতালি যাওয়ার জন্য বিশাল অংকের টাকা খরচ হয় যা আপনার প্রদান করিতে হবে। ইতালি সরকার বাংলাদেশ থেকে ২৭ হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেবেন। তাই আপনাকে যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে।

তাছাড়া কোনো ভালো দালালের মাধ্যমে আপনি ইতালি যেতে পারবেন। তবে ইতালি থাকা কোন ব্যক্তি যদি আপনার জন্য রেকমেন্ড করে তাহলে আপনি খুব সহজেই ইতালি ভিসা পেয়ে যাবেন। আর যদি আপনার কোন আত্মীয় না থাকে তাহলে ভালো দালালের শরণাপন্ন হন। তবে ইতালি যাওয়ার পুর্বে আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন ভিসা খরচ কত পরে। কেননা অনেকের সামর্থ্য থাকে না এত খরচ বহন করার।

ইতালি ভিসা ফরম

আপনি যদি অনলাইনে ভিসা আবেদন করেন সেক্ষেত্রে একটি ফর্ম আপনাকে পূরণ করতে হবে। সেই ফ্রম আপনাকে পরে ডাউনলোড করে নিতে হবে। সেই ফ্রম ব্যতীত আপনি কখনোই ভিসা পাবেন না। আর আপনি যদি কোন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করে থাকেন তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে একটি ফরম দেয়া হবে। মনে রাখবেন কোনভাবেই এই ফ্রম হারানো যাবে না।