ঈদে মিলাদুন্নবী কি? ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ?

ঈদে মিলাদুন্নবী কি? ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ?

ঈদে মিলাদুন্নবী কি? ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ ? এ বিষয়ে অনেকেরই না জানা রয়ে গেছে । আপনারা বিভিন্ন সাইটে গিয়ে খুঁজে থাকেন ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে কিন্তু আপনারা সঠিক কোন তথ্য খুঁজে পান না। এই পোস্টটিতে ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে সকল কিছু অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলো আশা করি সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন ।

পোস্টটি যদি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে না জানা সকল তথ্য সম্পর্কে আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন । তো আর দেরি না করে চলুন দেখে নেয়া যাক ঈদে মিলাদুন্নবী কি? ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ?

Table of Contents

ঈদে মিলাদুন্নবী কি ও কেন

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ঠিক জন্ম তারিখ কবে এ নিয়ে প্রায় অনেকগুলো মতবাদ রয়েছে ইতিহাসবিদদের।তবে রাসূল করীম সাঃ এর ওফাত বা মৃত্যু যে হয়েছে 12 রবিউল আউয়াল এ ব্যাপারে তেমন কোনো দ্বিমত নেই । তাহলে নবী করিম সাঃ এর ওফাত বা দুনিয়া ত্যাগ বিষয়টি সুপ্রমাণিত এবং সত্য। আর জন্ম টা তার 12 রবিউল আউয়াল হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে ।

কোন হাদিসে নবী করিম সাঃ এর জন্মের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি কিন্তু দিন বা বার উল্লেখ করা হয়েছে সেই বার টি হল (সোমবার) । আর ওফাত বা মৃত্যু বরণ রবিউল আওয়াল রোজ (সোমবার) হয়েছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই ।যেহেতু জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন একই দিনে সেহেতু মুসলিম জাতির জন্য এটি একই সাথে যেমন আনন্দের তেমনি বেদনাদায়ক ।

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ 12 ই রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্মদিন সাহাবারা পালন করতেন না । আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও পালন করতেন না। হযরত মুহাম্মদ সাঃ শুধু এই দিনটিতে রোজা রাখতেন ।যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো এই দিনটিতে আপনি কেন রোজা রাখেন ? তখন উত্তরে বললেন , যেহেতু আমি জন্মেছি এ জন্ম টা আমাকে আল্লাহ তাআলা না দিলেও পারতেন এই জন্মের শুকরিয়া স্বরূপ আমি রোজা রাখি ।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি বিদআত

যেইদিন রাসূল সাঃ জন্মগ্রহণ করেছেন সেই একই দিনে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা যায়। আমাদের প্রিয় নবী যেই দিনে মৃত্যুবরণ করেছেন সেই দিনে আমরা মুসলিম জাতি হিসেবে কিভাবে আনন্দ উৎসব করতে পারি ? তাই এই দিনে আনন্দ উল্লাস করা একেবারেই যুক্তিহীন । আমরা চাইলে অবশ্যই এই দিনে মহানবী সাঃ এর জন্ম এবং মৃত্যুদিন হিসেবে ইবাদত-বন্দেগির করতে পারি । তাহার জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে পারি । এইসব বিষয় নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই ।

আমাদের উচিত নয় যে আমাদের মনগড়া কোন কিছু করা । ইসলামে কোন কিছু মনগড়া করা জায়েয নেই । কেননা নবী করীম সাঃ বলেছেন তোমরা ইসলাম নিয়ে কখনোই বাড়াবাড়ি করো না ।

ঈদে মিলাদুন্নবী এ বিষয়টি নিয়ে ইসলাম বিশেষজ্ঞদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে । আর এটি কোন ফরজ বা সুন্নত বা ওয়াজিব কোন ইবাদতও না। এটি এমন কিছু না.. যে এটি না করলে আমাদের কোন গুনাহ হবে। তাই এই সবকিছু এড়িয়ে চলাই আমাদের জন্য উত্তম হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা কি জায়েজ

হযরত মুহাম্মদ সাঃ কখনোই বলেননি যে, আমার জন্মদিন তোমরা পালন করো । নবী করিম সাঃ এর জন্মদিন কখনোই সাহাবীগণ, তাবে তাবেঈন পালন করেননি। কিন্তু যদি আমরা নবীর জন্মদিন উদযাপন করি তবে এটি বেদাত হয়ে যাবে। তিনি কখনোই বলেননি যে আমার মৃত্যুর দিন বা জন্মবার্ষিকীতে তোমরা কোন কিছু পালন করো। তাই আমাদের উচিত নবী করিম সাঃ এর কথা অনুযায়ী চলা। এবং তিনি যা বলেছেন তাই করা ।

তাই ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করার কোন প্রয়োজন নেই। এটা ইসলামের কোন বিধানও নয় । এটি ইসলামেও নেই, কোরানেও নেই, শরীয়তেও নেই । আর এটি কোন ফরজ বা সুন্নত বা ওয়াজিব কোন ইবাদতও না। এটি এমন কিছু না.. যে এটি না করলে আমাদের কোন গুনাহ হবে। তাই এ থেকে এড়িয়ে চলাই আমাদের জন্য উত্তম হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে বক্তব্য

12 রবিউল আউয়াল নবী করিম সাঃ এর জন্ম হয়েছে বলে জানা যায় আবার সাথে সাথে 12 রবিউল আউয়াল তার মৃত্যুও হয়েছে।পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নবী করিম সাঃ এর জন্ম বা মৃত্যু সুনিদৃষ্ট তারিখের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।ইতিহাসবিদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বারই রবিউল আউয়ালকে নবী করিম সাঃ এর জন্মগ্রহণ করার তারিখ ধরা হয় ।

তো প্রশ্ন হল~12 রবিউল আউয়াল নবীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবেন? নাকি নবীর মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন করবেন?

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআন মাজিদে বলে দিয়েছেন।
সূরা আল ইমরান, সুরা নং 03 আয়াত 54 :
আর তারা কুটকৌশল করেছে এবং আল্লাহ কৌশল করেছেন। আর আল্লাহ উত্তম কৌশল কারি।

তো এটা কোরআন হাদিসে প্রমাণিত নয় যে, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করা। আর এটা উদযাপনের কোন প্রয়োজন নেই । তাই এ সমস্ত বিষয় থেকে আমাদের দূরে থাকাটাই যুক্তিযুক্ত ।

Read More