সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা খরচ ও বেতন কত

সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা খরচ ও বেতন কত

আমাদের দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কাজের ভিসায় সৌদি আরব যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসায় সবচেয়ে বেশি মানুষ নিয়োগ দিয়ে থাকেন সৌদি আরব। এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের ভিসায় মানুষ সৌদি আরব যায়। তবে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা সৌদি তে বেশি। সৌদি আরব নানা ধরনের কাজের ভিসায় মানুষ গিয়ে থাকে। কেউ ইলেকট্রিক ভিসায়, কেউ শ্রমিক ভিসা, কেউ কিলিনার ভিসা, কেউ হোটেল বাড়ি স্টুডেন্ট ভিসায় আবার কেউবা ড্রাইভিং কাজে সৌদি আরব যায়।

আজকের এই পোস্টটিতে আমি সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা নিয়ে আলোচনা করব। সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা তে যাওয়ার পুর্বে আপনার জেনে রাখা ভালো ভিসা খরচ কত হবে, ভিসা আবেদনের জন্য আপনার কি কি প্রয়োজন এবং কিভাবে আপনি খুব সহজে ভিসা পেয়ে যাবেন। এসকল বিষয় আমি সুন্দরভাবে তুলে ধরবো। আপনি যদি কাজের ভিসায় সৌদি আরব যেতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

Table of Contents

সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা

ক্লিনার ভিসা সৌদি গেলে আপনাকে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হবে। যা আপনার জন্য খুবই সহজ হবে। সৌদি কিলিনার ভিসায় সাধারণত বিভিন্ন শপিং মল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাগান ও মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনি যদি ভারী কোনো কাজ করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি ক্লিনার ভিসা তে সৌদি যেতে পারেন। আর ক্লিনার ভিসা তে সৌদি যাওয়া সহজ। সৌদি ক্লিনার ভিসায় খরচ কম হয়ে থাকে।

তাছাড়া সৌদি ক্লিনার ভিসা তে বেতনের পরিমাণ অনেক বেশি। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ অল্প পরিশ্রমে বেশি টাকা কামাতে চায়। আর ক্লিনার ভিসায় গেলে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না। বেশিরভাগ সময় বসে কাটানো যায়। আর যদি আপনি শপিং মল, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ অথবা বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে টিপস দেওয়া হবে। যা থেকে আপনার বাড়তি উপার্জনের একটি পথ বের হবে।

সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা খরচ

ক্লিনার ভিসা তে যদি আপনি সৌদি আরব যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ৪ লক্ষ টাকা এর মত। যেহেতু বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ দালাল ভিত্তিক সৌদি গিয়ে থাকে তাই তাদের খরচের পরিমাণ একটু বেশি হয়ে থাকে। যদি কোন দালালের মাধ্যমে আপনি সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা তে যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ৪ লক্ষ টাকার মতো। আর যদি কেউ সৌদি আরব থেকে আপনার জন্য ভিসা পাঠায় সেই ক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ২ লক্ষ টাকার মত।

তাই সবচেয়ে ভাল আপনার পরিচিত কেউ যদি সৌদি থাকে তার মাধ্যমে ভিসা আবেদন করা। সেক্ষেত্রে কম্পানি আপনার কিছুটা খরচ বহন করে নিবে। যার কারনে আপনার খরচের পরিমাণ কম হয়ে যাবে। আর এভাবে আপনি বৈধ উপায়ে সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা তে যেতে পারবেন। দালালের মাধ্যমে আপনি ক্লিনার ভিসা তে সৌদি যেতে পারবেন কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার একটু খরচ বেশি হবে।

সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা বেতন কত

সৌদি আরব ক্লিনার ভিসা বেতন ১০০০ রিয়াল থেকে শুরু করে ১৫০০ রিয়াল পর্যন্ত হয়ে থাকে। ক্লিনার ভিসা তে সবচেয়ে বেতন বেশি হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট এ। এছাড়াও শপিংমলে ক্লিনার ভিসা তে ভালো বেতন দিয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে কম বেতন হয় মসজিদ ক্লিনার ভিসায়। আপনি যদি মসজিদ ক্লিনার ভিসা পেয়ে সৌদি আরব যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার বেতন পরবে ১০০০ রিয়াল।  যদি আপনি অফিস, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ক্লিনার ভিসা তে যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার বেতন পড়বে ১৫০০ রিয়াল।

সৌদি আরব মসজিদ ক্লিনার ভিসা

ক্লিনার ভিসার মধ্যে সবচেয়ে বেতন কম মসজিদ ক্লিনার ভিসায়। মসজিদ ক্লিনার ভিসা বেতন ১০০০ রিয়াল। তবে এক্ষেত্রে অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। মসজিদ ক্লিনার ভিসায় গেলে অনেক ক্ষেত্রে টিপস থেকে আপনি বেতনের চেয়ে বেশি টাকা উপার্জন করতে পারবেন। প্রতি শুক্রবার সৌদি ধনীরা কাজের ভিসায় যাওয়া মানুষদের টিপস থাকে। আবার দেখা যায় রোজার সময় ও ঈদের মধ্যে প্রায় ৪ – ৫ লক্ষ টাকা টিপস থেকে উঠে যায়।

তাই বেশিরভাগ মানুষ বেতন কম থাকলেও মসজিদ ক্লিনার ভিসা তে সৌদি গিয়ে থাকে টিপস এর আশায়। আর এটা সবাই জানে সৌদির মানুষ অনেক দানভীর হয়ে থাকে। তারা অনেক টাকা-পয়সা দান করে থাকে। যদি কোন ভাগ্যবান ব্যক্তি থাকে তাহলে সৌদি ধনাঢ্য ব্যক্তির মন মত চলতে পারলে তার টিপস এর টাকায় জীবন কেটে যাবে।

সৌদি আরব রেস্টুরেন্ট ক্লিনার ভিসা

সৌদি আরব রেস্টুরেন্ট ক্লিনার ভিসা তে বেতন অনেক ভালো হয়ে থাকে। আপনি যদি ভালো কোন কোম্পানির রেস্টুরেন্ট ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার বেতন পড়বে ১৫০০ রিয়াল। আর এটা সবার জানা সৌদি বলদিয়া কোম্পানি তে বেতন সবচেয়ে ভালো দিয়ে থাকে। আর বল দিয়া কোম্পানির নাম সারা সৌদি ব্যাপী রয়েছে। তাই যদি পারেন সৌদি আরব রেস্টুরেন্ট ক্লিনার ভিসা তে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

সৌদি আরব ভিসা আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সৌদি আরব ভিসা আবেদনের জন্য আপনাকে সৌদি কোন এজেন্সির সাথে আলোচনা করতে হবে। আর যদি আপনি তা না পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি দালালের সহায়তা নিতে পারেন। কেননা বাংলাদেশের সকল ধরনের ভিসা দালাল দ্বারা হয়ে থাকে। তাই আপনি পাইলেন দালালের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করে নিতে পারেন। দালালের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করলে আপনার বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না। ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

১। একটি মেয়াদ সম্পন্ন বৈধ পাসপোর্ট।

২। ১০ কপি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স।

৪। শারীরিক ফিটনেস এর মেডিকেল সার্টিফিকেট।

৫। করোনা ভাইরাসের টিকা এর সার্টিফিকেট।

৬। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।

৭। আপনার পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।

Read More