আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ ও ইন্টারভিউ

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ ও ইন্টারভিউ

আমেরিকা প্রায় বেশিরভাগ মানুষের স্বপ্নের নাম। কেননা বেশিরভাগ মানুষ তাদের স্বপ্ন বুনে আমেরিকা যাওয়ার জন্য। কেননা আমেরিকা দেশ টা অন্যরকম সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ। আর এখানে প্রতিটা জিনিসের পরিপূর্ণতা দেখে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। কারণ এখানে শৃঙ্খলা বোধ সম্পন্ন মানুষরা পরিবেশকে অত্যন্ত সুন্দর করে তুলেছে। বেশিরভাগ মানুষ আমেরিকা বেড়াতে যায় অথবা পড়াশোনা করতে যায়। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি গুলোর মধ্যে অন্যতম। আর এর দর্শনীয় জায়গাগুলো এক কথায় অসাধারণ।

যার কারণে বেশিরভাগ মানুষ আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যায় বেড়ানোর জন্য। আপনারা যারা আমেরিকান টুরিস্ট ভিসায় যেতে চাচ্ছেন তাদের টুরিস্ট ভিসার খরচ সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। আজকের এই পোস্টে আমি আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ, ভিসা আবেদনের নিয়ম, কত দিনের মধ্যে ভিসা পেয়ে যাবেন, আর ভিসা করতে আপনার কি পরিমাণ ব্যয় হতে পারে তা সমস্ত তুলে ধরবো। চলুন এবার মূল কথায় আসা যাক।

Table of Contents

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ

টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার পুর্বে আপনার জেনে রাখা ভালো আমেরিকার ভিসার খরচ কত। কেননা টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার পূর্বে আপনাকে প্রথমে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ভিসার জন্য আবেদন করার পর তারা আপনার ইন্টারভিউ নিবেন। ইন্টারভিউতে যদি আপনি পাস করেন তাহলে আপনি টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যেতে পারবেন। আর যদি আপনি ফেল করেন তাহলে আপনি আমেরিকা যেতে পারবেন না।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়া কতটা কষ্টকর। টুরিস্ট ভিসা আবেদনের জন্য আপনার খরচ পড়বে $ 160 ডলার। এই পরিমান ডলার খরচ পড়বে ব্যবসা, ছাত্র বিনিময় ও পর্যটকদের ক্ষেত্রে। তবে ধর্মীয় ভিসা, পিটিশন ভিসা, কাজের ভিসার জন্য আপনার খরচ পড়বে $190 ডলার। K ক্যাটাগরি ভিসার জন্য আপনার খরচ পড়বে $260 ডলার এবং E ক্যাটাগরি ভিসার জন্য আপনার খরচ পড়বে $210 ডলার।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা এম্বাসি তে গিয়ে DS- 160 এই ফরমটি আপনার পূরণ করে নিতে হবে। এই ফর্ম পূরণ করার পর তারা আপনাকে মেইলের মাধ্যমে ইন্টারভিউ এর তারিখ জানিয়ে দিবে। ইন্টারভিউ এর তারিখ অনুসারে আপনাকে সেখানে গিয়ে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউ দেওয়ার পর যদি আপনি সেখানে সিলেকশন তারপর আপনি আমেরিকা যেতে পারবেন।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইন্টারভিউ। কেননা ইন্টারভিউ ছাড়া তারা আপনাকে টুরিস্ট ভিসা প্রদান করবে না। আপনি যদি ইন্টারভিউয়ে পাস করেন তাহলে আপনি টুরিস্ট ভিসা পেয়ে যাবেন। আবার আমেরিকা টুরিস্ট ভিসার কিছু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যেমন আপনি যদি আমেরিকা টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে থাকেন তাহলে আপনি সেখান থেকে আর কোন ভিসা ছাড়া কয়েকটি দেশে যেতে পারবেন।

এই সুযোগ সুবিধা অন্য কোন দেশে ভিসার ক্ষেত্রে আপনি পাবেন না। তবে আমেরিকার টুরিস্ট ভিসা নিয়মকানুন অনেক কঠিন হয়ে থাকে। তবে যারা নিয়ম কানুন ফলো করে থাকে তাদের জন্য কিছুই না। আমেরিকা অনেক একটিভ একটি রাষ্ট্র। যার কারণে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো তারা দেখে তারপর কাজ করে। আমাদের দেশের মত এত দুর্নীতি ও ঘুষ খোর কর্মী দ্বারা তারা কোনো কাজ করে না।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা ইন্টারভিউ

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে ইন্টারভিউতে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ। সেই সাথে আরো প্রমাণ করতে হবে যে আপনি আমেরিকায় গিয়ে আবার ফিরে আসবেন। তাছাড়া ইন্টারভিউতে তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি কোন কোন জায়গায় আসলে বেড়াতে যেতে চান। এবং আপনার সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন কোন পোস্ট থাকা যাবে না যেখানে আপনি আমেরিকার বিরুদ্ধে কোন কাজে লিপ্ত ছিলেন।

এসকল কিছু যদি আপনার ঠিক থাকে তাহলে আপনি আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পেয়ে যাবেন। তবে আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পেতে হলে আপনাকে অন্যান্য দেশে ভ্রমণের অভ্যাস থাকতে হবে। যদি আপনি অন্যান্য দেশে ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা পাওয়া সহজ হবে। তা না হলে আপনার টুরিস্ট ভিসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব বললেই চলে। মোটকথা তাদেরকে বোঝাতে হবে যে আপনি একজন ট্রাভেলার, এমনকি আপনি আমেরিকার ট্রাভেল করে ফিরে আসবেন দেশে।

যদি আপনি এতোটুকু প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আপনার ভিসা কনফার্ম হয়ে যাবে। আর তার আপনাকে খুব বেশি প্রশ্ন করবে না। শুধু তারা জানতে চাইবে আপনি কোন কোন জায়গায় বেড়াতে চান আমেরিকা গিয়ে। এর জন্য আমেরিকা যাওয়ার পূর্বে এর দর্শনীয় স্থান গুলোর নাম জেনে নেয়া আবশ্যক। তাছাড়া আপনি যদি তাদের দেশের এবং তাদের দেশের জনগণের প্রশংসা করতে পারেন তাহলে আপনার জন্য আরও সহজ হবে।

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা ইন্টারভিউ প্রশ্ন

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা ইন্টারভিউ তে যাওয়ার পূর্বে আপনাকে সুন্দর পোশাক পরিধান করতে হবে। আর অবশ্যই কনফিডেন্ট এর সাথে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। কোনভাবেই তাদের সামনে গিয়ে নার্ভাস হওয়া যাবে না। আপনি যদি তাদের সামনে গিয়ে নার্ভাস হয়ে যান তাহলে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। চলুন এবার জেনে নেয়া যাক টুরিস্ট ভিসার জন্য কি কি প্রশ্ন করে থাকে।

১। আপনি কেন আমেরিকা যেতে চান?

২। আপনার দেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে কিনা?

৩। তুমি আমেরিকার কোন কোন জায়গায় যেতে চাও এবং কি কি দেখতে চাও?

উপরের দেয়া প্রশ্নগুলো আপনাকে অবশ্যই করবে। তাই আপনাকে এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর সঠিকভাবে কনফিডেন্সের সাথে দিতে হবে। আর বেড়াতে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনার আর্থিক দিকটা বিবেচনা করা হবে। আপনার যদি আর্থিক দিক ভাল থাকে তাহলে ভিসা পাওয়া সহজ হবে। আর অবশ্যই ইন্টারভিউ এর পূর্বে তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা দিয়ে তারপর ইন্টারভিউ দিতে হবে।

টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যেতে কি কি প্রয়োজন

১। প্রথমেই আপনার যেটা প্রয়োজন সেটা হলো একটি বৈধ পাসপোর্ট মেয়াদ সহ।

২। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

৩। আপনার সার্টিফিকেট। যদি সার্টিফিকেট না থাকে তবে সম্পদের স্টেটমেন্ট।

উপরের দেয়া জিনিস গুলো যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি টুরিস্ট ভিসায় আমেরিকা যেতে পারবেন। আমেরিকা যাওয়ার পূর্বে আপনাকে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর তারা মেইল করে আপনাকে জানিয়ে দিবে কবে আপনার ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ এর পূর্বে টাকা জমা দিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউতে টিকে গেলে তারপর আপনি আমেরিকার যেতে পারবেন।

Read More

রোমানিয়া বেতন কেমন ২০২৩

কানাডা যেতে কত পয়েন্ট লাগে – কানাডা স্টুডেন্ট ভিসা খরচ

মায়ের ভালোবাসার স্ট্যাটাস ও কবিতা

কানাডা স্টুডেন্ট ভিসা যোগ্যতা ও স্টুডেন্ট ভিসা খরচ