পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে

পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে – পর্তুগাল ভিসা খরচ

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগাল অন্যতম। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি উপকূলীয় অঞ্চল। তাছাড়া পর্তুগালকে রোনালদোর দেশ হিসেবে সবাই চেনে। বিশ্ব বিখ্যাত ফুটবল প্লেয়ার রোনালদোর জন্মস্থান পর্তুগাল। পর্তুগালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই মনোরম। যে কেউ এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে বাধ্য। বর্তমানে পর্তুগাল বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। আপনি যদি পর্তুগাল যেতে চান তাহলে যেতে পারবেন।

পর্তুগাল যাওয়ার পূর্বে জেনে রাখা ভালো পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে। তাছাড়া পর্তুগালে বিভিন্ন ধরনের ভিসা রয়েছে প্রত্যেক ভিসার ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ আপনার জানা থাকা প্রয়োজন। আজকের পোস্টে আমি পর্তুগাল যেতে কি পরিমান খরচ হয় এবং প্রত্যেক ভাষার খরচের পরিমাণ তুলে ধরবো। তাই যারা পর্তুগাল যেতে চান তারা ভিসা খরচ জানতে সম্পুর্ন পোস্ট ভাল করে পড়ুন।

Table of Contents

পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে

পর্তুগাল থেকে আপনার কত টাকা খরচ হবে তা নির্ভর করবে আপনার ভিসার উপর। কেননা পর্তুগাল যাওয়ার জন্য ৪ ধরনের ভিসা রয়েছে। প্রত্যেক ভিসার ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ আলাদা হয়ে থাকে। আপনি যদি কাজের ভিসায় যান তাহলে আপনার খরচ পড়বে একরকম। আর আপনি যদি ভিজিট ভিসা অথবা স্টুডেন্ট ভিসায় যান সে ক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে অন্যরকম।

যেহেতু প্রতিকী ভিসায় আলাদা আলাদা খরচ হয় তাই নির্দিষ্ট করে একক কোনো খরচ বলা যাবে না। তাই আমি প্রতিটি ভিসার আলাদা আলাদা খরচ নিচে তুলে ধরবো। যারা প্রতিটি ভিসার খরচ আলাদা আলাদা ভাবে জানতে চান তাদেরকে অবশ্যই নিচের অংশ পড়তে হবে। নিচের অংশ থেকে দেখে নিন স্টুডেন্ট ভিসা, কাজের ভিসা, ভিজিট ভিসার খরচ।

স্টুডেন্ট ভিসা খরচ – যদি আপনি কী স্টুডেন্ট ভিসায় পর্তুগাল যেতে চান তাহলে আপনার সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ৪ লক্ষ টাকা। তবে খরচের পরিমাণ সময় সাপেক্ষে কমবেশি হতে পারে। কেননা অনেক সময় স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কম লাগতে পারে। আবার ফ্লাইট এর দাম বেড়ে গেলে কিছু টাকা বেশি লাগতে পারে।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা খরচ – যদি আপনি কাজের উদ্দেশ্যে পর্তুগাল যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে ৯ লক্ষ থেকে আট ১১ লক্ষ টাকা। যেহেতু বাংলাদেশে দালালের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই দালালকে আপনি যত দিয়ে মিটাতে পারবেন আপনার খরচ তাই হবে।

টুরিস্ট ভিসা  খরচ – যদি আপনি টুরিস্ট ভিসায় পর্তুগাল যেতে চান আপনার খরচ পড়বে ৪ লক্ষ টাকা। আমি যে খরচ তুলে ধরতেছি সেগুলো বর্তমান সময়ের খরচ। তবে কিছু কিছু সময় এর কম হতে পারে।

মেডিকেল ভিসা খরচ – পর্তুগাল মেডিকেল ভিসার খরচ পড়ে ৩ লক্ষ টাকা। মেডিকেল ভিসার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সকল দেশের খরচের পরিমাণ কম হয়। কেননা সরকারকর্তৃক সেখানে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়। আর পর্তুগালে সবচেয়ে ভিসার দাম কম মেডিকেল ভিসা।

পর্তুগাল কাজের ভিসা

আপনি যদি পর্তুগাল কাজের ভিসায় যেতে চান তাহলে সবচেয়ে ভালো যদি আপনার কোন আত্মীয় বা পরিচিত কেউ পর্তুগাল থাকে। তবে সেখান থেকেই সে যদি কোন কোম্পানি থেকে ভিসা বের করে আপনাকে দিতে পারে তবে আপনার জন্য তা ভালো হবে। এক্ষেত্রে আপনার খরচের পরিমাণ কম হবে। তাছাড়া আপনার সাথে সাথে কাজ পাওয়ার একটা সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

আর যদি আপনি কোন দালালের মাধ্যমে পর্তুগাল পেতে চান তাহলে আপনার খরচ বেশি পড়বে। এক্ষেত্রে আপনার খরচ হতে পারে সর্বোচ্চ ৯ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। আর যদি আপনার পরিচিত কেউ থাকে তাহলে আপনার খরচ পড়বে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা। পরিচিত কাউকে দ্বারা ভিসা বের করলে তা সবচেয়ে ভালো হয়।

পর্তুগাল ভিসার দাম কত

পর্তুগাল ভিসার দাম আপনি কোন ভিসা তে পর্তুগাল যাবেন তার উপর নির্ভর করবে। তবে বেশিরভাগ মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে ও ভিজিট ভিসায় পর্তুগাল গিয়ে থাকে। আপনি যদি কাজের উদ্দেশ্যে যান তাহলে আপনার খরচ পড়বে ৯ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। আর যদি ভিজিট ভিসায় যান তাহলে আপনার খরচ হবে ৪ লক্ষ টাকা।

পর্তুগাল ভিসা প্রসেসিং

পর্তুগাল ভিসা প্রসেসিং করার জন্য আপনার প্রথমে প্রয়োজন একটি বৈধ পাসপোর্ট। এরপর আপনার আইডি কার্ডের ফটোকপি। সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। এসকল তথ্য যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ভিসা আবেদন আপনার পরিচিত কেউ যদি পর্তুগাল থাকে তার দ্বারা করলে সবচেয়ে ভালো। তবে দালালের মাধ্যমে আপনি ভিসা আবেদন করে নিতে পারবেন।

পর্তুগাল ভিসা আবেদন

পর্তুগাল ভিসা আবেদন করার জন্য পর্তুগাল ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসা আবেদন করতে হবে। আর যদি আপনি দালাল ধরে কাজ করেন তাহলে সে নিজেই আপনার ভিসা আবেদন করে দেবে। তখন আপনার বাড়তি কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আর সবচেয়ে ভালো যদি পর্তুগাল আপনার পরিচিত কেউ থাকে। সেক্ষেত্রে সে মন্ত্রণালয় গিয়ে আপনার জন্য ভিসা আবেদন করে দিতে পারবে।

পর্তুগাল ভিসা আপডেট

পর্তুগাল জনসংখ্যা কম হওয়াতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্যে তারা শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনি যদি কাজের উদ্দেশ্যে পর্তুগাল যেতে চান তাহলে আপনার জন্য রয়েছে সুবর্ণ সুযোগ। কেননা এবছর পর্তুগালের সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক তারা নিবে। সুতরাং আপনি যদি পর্তুগাল যেতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনি আবেদন করে নিতে পারেন।

পর্তুগাল যাওয়ার সহজ উপায়

পর্তুগাল যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পর্তুগাল বসবাসরত কোন ব্যক্তির দ্বারা যাওয়া। পর্তুগালে কাজ করে অথবা পর্তুগাল রয়েছে এমন কোন ব্যক্তি যদি আপনার জন্য ভিসা আবেদন করে থাকে তাহলে আপনি অতি দ্রুত ভিসা পেয়ে যাবেন। সুতরাং আপনি যদি সহজ উপায়ে পর্তুগাল পেতে চান তাহলে এই উপায়ে যেতে পারেন। এছাড়াও দালালের মাধ্যমে আপনি যেতে পারেন।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোন দেশ থেকে আপনি অতি সহজে পর্তুগাল যেতে পারবেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার জন্য যেমন ভোগান্তির শিকার হতে হয় না যেমনটা অন্য দেশ থেকে হয়। তাই আপনার যদি খুব ইচ্ছা থাকে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে গিয়ে সেখান থেকে পর্তুগাল যেতে পারেন। যেমন লিবিয়া থেকে আপনি খুব সহজে পর্তুগাল যেতে পারবেন।

Read More

ইতালি ভিসা খরচ – ইতালি যেতে কত টাকা লাগে

ইতালি ভিসা খরচ ২০২৩ – ভিসা আবেদনের লিংক

রোমানিয়া ভিসার দাম কত – রোমানিয়া বেতন কেমন

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা খরচ ও ইন্টারভিউ

কানাডা যেতে কত পয়েন্ট লাগে – কানাডা স্টুডেন্ট ভিসা খরচ